আস্ক প্রশ্নে আপনাকে স্বাগতম ! এটি একটি প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক কমিউনিটি। এই সাইট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন ...
75 বার প্রদর্শিত
"ইসলাম ধর্ম" বিভাগে করেছেন (8,263 পয়েন্ট) 20 73 204

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (1,439 পয়েন্ট) 13 25 40
হযরত লোকমান (আ.)। তিনি ছিলেন প্রাচীন যুগের একজন পণ্ডিত ও  জ্ঞানী ব্যক্তি।

তিনি সারা জীবন মানুষকে মূল্যবান উপদেশ দিয়েছেন। তার সময়ে জ্ঞানগরিমা, বুদ্ধিশুদ্ধি, ভালো কথা ও সৎ কাজে তিনি ছিলেন সবার সেরা। আর এ কারণেই নবী না হবার পরও তার নাম পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহতালা পবিত্র কুরআনে লোকমান হাকিমের কথা উল্লেখ করে বলেন যে , ‘ আমি লোকমানকে হেকমত তথা বুদ্ধি ও বিচক্ষণতা দিয়েছিলাম।’

হযরত লোকমান ছিলেন হাবশি সম্প্রদায়ের লোক। প্রথম জীবনে তিনি তৎকালীন শাম দেশের অধিবাসী এক ধনী ব্যক্তির অধীনে গোলামির জীবন শুরু করেন। তারপর তিনি গোলামির জীবন থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহতালার অপার অনুগ্রহে অফুরন্ত শিক্ষা-দীক্ষা এবং হেকমত শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর জ্ঞান লাভের পেছনে তিনটি গুণ বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। এ সম্পর্কে একটি গল্প প্রচলিত আছে। গল্পটি এরকম-

হযরত লোকমান যখন বকরি চরাতেন তখন একটি সমবয়সি বালকের সাথে তাঁর বন্ধুত্ব হয়। পরবর্তী জীবনে সেই বাল্যবন্ধুটি ঘটনাক্রমে লোকমানের একটি শিক্ষা মজলিসে উপস্থিত হয়ে দেখল যে, বহু মানুষ লোকমানকে ঘিরে বসে তাঁর কাছ থেকে এলেম ও হেকমত শিক্ষা করছে। অবাক হয়ে সেই বাল্যবন্ধু লোকমানকে লক্ষ্য করে বলল, ‘তোমাকে দেখে বাল্যজীবনের কথা মনে পড়ছে। তুমি কি সেই লোক যার সাথে আমি মাঠে বকরি চরাতাম ?’

হযরত লোকমান লোকটির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ বন্ধু তুমি ঠিকই ধরেছ আমি সেই লোক’।

বাল্যবন্ধু জিজ্ঞেস করল ‘বন্ধু , তুমি এই মর্যাদা কিভাবে অর্জন করলে!’ লোকমান জবাব দিলেন- তিনটি স্বভাবের মাধ্যমে। স্বভাব তিনটি হলো-

১. কোনদিনই কারও সঙ্গে মিথ্যা বলি নি

২. আমি কখনও কারো আমানতে খেয়ানত করি নি এবং

৩. কারও সাথে আমি কখনও বেহুদা কথায় সময় নষ্ট করি নি

  হযরত লোকমান তার পুত্রকে উদ্দেশ্য করে বহু মূল্যবান উপদেশ দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের সূরা লোকমানে তা বর্ণনা করা হয়েছে। হযরত লোকমান হাকীম তাঁর পুত্র উদ্দেশ্য করে বলেছেন,

 “হে আমার পুত্র!  আল্লাহর সাথে তুমি কাউকে শরীক করো না; নিঃসন্দেহে আল্লাহর সাথে শরীক করা গুরুতর অপরাধ।” তিনি আরও বলতেন, “হে আমার পুত্র! সালাত কায়েম করো, আর সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং অসৎকাজে নিষেধ কর। বিপদে-আপদে সবর করো। নিশ্চয়ই এটা সাহসিকতার কাজ।”

হযরত লোকমান হাকীম মানুষকে গর্ব-অহংকার করা, উচ্চস্বরে কথা বলা, পিতামাতাকে কষ্ট দেয়া, কুফরী করা, ভোগ-বিলাসে গা ভাসিয়ে দেয়া থেকে বিরত থাকার জন্যও উপদেশ দিয়েছেন। দেখতে কালো এ মানুষটি কৃতদাস থাকাকালে তাঁর মনিবকে অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। এ সময় তাঁর জীবনে ঘটে যায় অনেক ঘটনা।

 তাঁর ক্রীতদাস জীবনের একটি ঘটনা,

  হযরত লোকমান হাকিম তখন যুবক। একটি ঘটনায় তাকে বন্দী হিসেবে আটক করা হলো। পরে তাকে এক ধনী লোকের ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করা হলো। সৌভাগ্যক্রমে লোকমানের মনিব ছিলেন একজন বুদ্ধিমান ও রুচিশীল মানুষ। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি লোকমানের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বুদ্ধি, বিবেক, জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ঈমান দেখে মুগ্ধ হলেন। দেখতে দেখতে মালিক, লোকমান হাকীমকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতে লাগলেন। মনিব সবসময় চেষ্টা করতেন, লোকমানের মান-সম্মান যেকোনো অবস্থায় বজায় রাখতে। তিনি তখন খেতে বসতেন তখন লোকমানকে সাথে নিয়েই খেতেন।

 হযরত লোকমান নিজে আগে খাবার খেতেন তারপর খাবারের বাকি অংশ খেতো তার মনিব এবং তারপর অন্যান্যরা। লোকমান যদি কোনো কারণে কোনো একটা খাবার না খেতেন তার মনিবও সেই খাবারে মুখ দিত না। একান্তই যদি নিরুপায় হয়ে খেতেই হতো তাহলে এমনভাবে খেতো যেন ইচ্ছে নেই কিংবা ক্ষুধা নেই।

 ওই ধনী লোকটির জন্য একদিন কে যেন একটা তরমুজ পাঠিয়েছিল উপহার হিসেবে। লোকটি সঙ্গে সঙ্গে তার এক গোলামকে ডেকে বলল- “এক্ষুণি গিয়ে লোকমানকে ডেকে আনো। লোকমান এসে আগে তরমুজ খাবে তারপর আমি খাব।”

লোকমান আসার পর তার মনিব একটা ছুরি দিয়ে তরমুজটি কাটল। প্রথম টুকরোটি দিল লোকমানকে। লোকমান তরমুজের ওই টুকরোটি এমনভাবে খেতে শুরু করল যেন মধুর চেয়েও মিষ্টি ওই তরমুজ। বেশ মজা করে খেল। লোকমান খুব মজা করে খাচ্ছে দেখে লোকটা পরের টুকরোটিও তাকে খেতে দিল। কারণ সে সত্যিই লোকমানকে ভীষণ ভালোবাসে। লোকমান আবারও বেশ মজা করে তরমুজের টুকরোটি খেল। এভাবে পরপর সতের টুকরো তরমুজ লেখেন লোকমান। অবশেষে একটি মাত্র টুকরো বাকি ছিল, ওই টুকরোটি মনিব নিজে খাবে বলে সিদ্ধান্ত নিল। সে বলল: এই টুকরোটি আমি নিজে খাব, দেখব এবং জানব তরমুজ কী করে এতো মিষ্টি আর সুস্বাদু হয়। লোকমান কী মজা করেই না সতেরটি টুকরো খেয়েছে!

কিন্তু যখনই মনিব তরমুজের শেষ টুকরোটি মুখে দিল এবং খেল, তিতা স্বাদ আর অন্যরকম একটা উটকো ঝাঁঝে তার চেহারা বিকৃত হয়ে গেল। এতো বেশি ঝাঁঝ আর তিতা ছিল ওই তরমুজ যে মনিবের জিহ্বার পাশাপাশি গলাও তিতা হয়ে গেল। অতিরিক্ত তিতার কারণে লোকটি অজ্ঞান হয়ে পড়ার উপক্রম হলো। বেশ কিছু সময় পর কিছুটা স্বস্তি বোধ করল মনিব। এরপর লোকমানকে লক্ষ্য করে বললেন,

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি উত্তর
18 এপ্রিল 2018 "ইসলাম ধর্ম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অা ক ম আজাদ (8,263 পয়েন্ট) 20 73 204
1 উত্তর
12 মে 2018 "ইসলাম ধর্ম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Sajjad Jayed (10,124 পয়েন্ট) 134 597 1503
1 উত্তর
12 মে 2018 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Sajjad Jayed (10,124 পয়েন্ট) 134 597 1503
1 উত্তর
12 মে 2018 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Sajjad Jayed (10,124 পয়েন্ট) 134 597 1503
0 টি উত্তর

27,186 টি প্রশ্ন

28,844 টি উত্তর

3,078 টি মন্তব্য

2,169 জন সদস্য



আস্ক প্রশ্ন এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কমিউনিটির এই প্ল্যাটফর্মের সদস্যের মাধ্যমে আপনার প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যার সমাধান পেতে পারেন এবং আপনি অন্য জনের প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন। মূলত এটি বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য একটি প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক কমিউনিটি। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য।

  1. Foyjul Abdullah

    268 পয়েন্ট

    89 উত্তর

    0 প্রশ্ন

  2. Maharaj hossain

    183 পয়েন্ট

    90 উত্তর

    87 প্রশ্ন

  3. H.M.Monir Hossin

    166 পয়েন্ট

    38 উত্তর

    0 প্রশ্ন

  4. মোঃ রাকিবুল হাসান

    132 পয়েন্ট

    27 উত্তর

    0 প্রশ্ন

  5. Mehedi Hasan

    113 পয়েন্ট

    38 উত্তর

    1 প্রশ্ন

শীর্ষ বিশেষ সদস্য

146 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম
91 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম
90 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম
50 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম
30 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম
...