আস্ক প্রশ্নে আপনাকে স্বাগতম ! এটি একটি প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক কমিউনিটি। এই সাইট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন ...
33 বার প্রদর্শিত
"আন্তর্জাতিক" বিভাগে করেছেন (1,776 পয়েন্ট)  

1 উত্তর

1 টি পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (987 পয়েন্ট)  
পূনঃপ্রদর্শিত করেছেন

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর। জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৯ জন জঙ্গি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন টার্গেটে আত্মঘাতী হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকেই ছিনতাই করে ৪টি যাত্রীবাহী বিমান । এদের মধ্যে দুইটি বিমান আঘাত হানে নিউ ইয়র্কের আইকনিক টুইন টাওয়ারে। তৃতীয়টি আছড়ে পরে ওয়াশিংটন ডিসির ঠিক বাইরে আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দফতর পেন্টাগনে। কিন্তু লক্ষ্যচ্যুত হয় চতুর্থটি। সেটি আছড়ে পড়ে পেনসিলভানিয়ার একটি খোলা মাঠে। ৯/১১ হামলায় প্রাণ যায় প্রায় তিন হাজারেরও বেশি মানুষের। বিশ্বব্যাপী জঙ্গি দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সব কৌশলকে ত্বরান্বিত করতে বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে ৯/১১ এর অভিজ্ঞতা। প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের ক্ষমতাকেও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে এ ঘটনা।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ঘটনা

মঙ্গলবার, সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিট। নিউইয়র্কের আকাশে সেদিন ঝকঝকে রোদ। ১১০ তলা উঁচু ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারের আশি তলায় আছড়ে পড়ে ছিনতাইকৃত কুড়ি হাজার গ্যালন জ্বালানী বোঝাই আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৬৭ বিমান। বিমানটি যেখানে টাওয়ারটিকে আঘাত করে সেখানে মুহূর্তেই বিশাল অগ্নিকুণ্ডময় গর্ত সৃষ্টি হয়। চোখের পলকে মৃত্যু হয় ওই ফ্লোরগুলোতে থাকা প্রত্যেকের।

টেলিভিশন ক্যামেরাগুলো তখন ঘটনার সরাসরি ছবি সরবরাহ করে যাচ্ছিলো। উত্তর ও দক্ষিণ- দুটি টাওয়ার থেকেই মানুষদের সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছিলো। এমন সময় প্রথম হামলার ঠিক আঠারো মিনিট বাদে অন্য একটি বোয়িং ৭৬৭ বিমান এসে হাজির হলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রবল বেগে সাউথ টাওয়ারের ৬০তম তলায় আঘাত করল। পুরো টাওয়ারটিকে যেন দুভাগ করে ফেললো বিমানটি। প্রথম বিমানটি অতর্কিত হামলা করায় সেটির বেশি ফুটেজ পাওয়া যায় নি, তবে দ্বিতীয় বিমানটি যখন আঘাত করে তখন অনেকেরই ক্যামেরা তাক করা ছিলো টুইন টাওয়ারের দিকে; তারা প্রথম আক্রমণের ভয়াবহতা রেকর্ড করছিলেন তখন মূলত। দ্বিতীয় আঘাতটি ছিলো আরো ভয়াবহ। রাস্তার পাশাপাশি পাশের দালানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছিলো জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ। প্রথম আক্রমণে অনেকে ভেবেছিলেন বিমানের পাইলট হয়তো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। কিন্তু দ্বিতীয় হামলার পর আসল উদ্দেশ্য সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেলো। কারো বুঝতে বাকি রইলো না যে, আমেরিকা আন্ডার অ্যাটাক!

কারা করেছিলো আক্রমণ?

মার্কিন তদন্ত বলছে, আত্মঘাতী হামলাকারীরা ছিলো সৌদিসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশের নাগরিক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ছিল এই আক্রমণের পৃষ্ঠপোষক। আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন তখন পলাতক।

এত বড় একটি পরিকল্পিত হামলার পেছনে আল-কায়েদার প্রধান কারণ ছিলো তিনটি-

১। ইসরায়েলের প্রতি আমেরিকার বাড়াবাড়ি রকমের সমর্থন।

২। পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধে আমেরিকার অংশগ্রহণ।

৩। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান অব্যাহত রাখা।

হামলাকারীদের কেউ কেউ হামলার এক বছর আগে থেকেই আমেরিকায় বসবাস করে আসছিলো। তারা আমেরিকাতেই বিভিন্ন বেসরকারি ফ্লাইট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক বছর যাবত বিমান উড্ডয়নের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলো বলে জানা যায়। বাকিরা হামলার মাসখানেক আগে আমেরিকায় আসে ও হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করে।

ঘটনার দিন জঙ্গিদের ১৯ জনের দলটি তিন ভাগ হয়ে আমেরিকার পূর্ব উপকূলের তিনটি বিমান বন্দরের খুব সকালের ফ্লাইট ধরার জন্য রওনা দেয়। যে বিমানগুলো ক্যালিফোর্নিয়াগামী, সেগুলোকেই তারা ছিনতাইয়ের জন্য বেছে নেয়, কারণ তারা জানত, দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে যাওয়া বিমানগুলো থাকবে জ্বালানী ভরতি। নিরাপত্তার চোখ ফাঁকি দিয়ে জঙ্গিরা সহজেই তাদের সঙ্গে ছুঁড়ি ও বক্স-কাটার নিয়ে বিমানে উঠতে সফল হয়। বিমান চারটি টেক অফের কিছুক্ষণের মধ্যেই জঙ্গিরা ভয় দেখিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানকে তারা পরিণত করে লক্ষ্যভেদী মিসাইলে।

পেন্টাগনে আক্রমণ

আমেরিকান প্রশাসনের নিরাপত্তা বিভাগের সদয়র দফতর হচ্ছে পেন্টাগন। এটি ওয়াশিংটন ডিসির শহরতলীতে অবস্থিত। টুইন টাওয়ারের ঘটনায় যখন সারা বিশ্বের চোখ নিউ ইয়র্কে নিবদ্ধ তখনই সবার অগোচরে পেন্টাগনের উপর ঘুরপাক খাচ্ছিলো জঙ্গি হামলার তিন নম্বর বিমান- আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৭৭। ঠিক সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিটে পেন্টাগনের পশ্চিম পার্শ্বে আঘাত হানে বিমানটি। বোয়িং ৭৫৭ মডেলের বিমানটির জেট ফুয়েল মুহূর্তেই কংক্রিটের দৈত্যাকার দালানটিকে একখণ্ড নরকে পরিণত করে। পেন্টাগনের বিশাল একটি অংশ ধ্বসে পড়ে। বিমানে থাকা ৬৪ জন যাত্রী প্রাণ হারান। পেন্টাগনে মারা যান ১২৫ জন, আহতের সংখ্যাটি আরো অনেক বেশি।

আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একদম কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হেনে জঙ্গিরা জানান দেয়, তাদের শক্তি কতটুকু! বিশ্ব মোড়লদের সিংহাসন যেন খানিক সময়ের জন্য হলেও কেঁপে ওঠে।

পেন্টাগনে হামলার মিনিট ১৫ বাদে টুইন টাওয়ারের আতঙ্ক মারাত্মক রূপ ধারণ করে। প্রচণ্ড ধূলি ও ধোঁয়ায় আকাশ ভরে দিয়ে ধ্বসে পড়ে এর সাউথ টাওয়ার। জ্বলন্ত জেট ফুয়েলের সামনে সব প্রতিরোধই যেনো ছিলো অসহায়। সকাল সাড়ে দশটায় টুইন টাওয়ারের উত্তরের টাওয়ারটিও ধ্বসে যায়। ভবন দুইটি ধ্বসে যাওয়ার সময় তাতে থাকা ১৭ হাজার ৪০০ মানুষের মধ্যে মাত্র ২০ জনকে বের করে আনা সক্ষম হয়, যার মধ্যে ৬ জন নিজেদের অক্ষত রাখতে সমর্থ হন।  

ফ্লাইট ৯৩

ইউনাইটেড ফ্লাইট ৯৩ নামে ক্যালিফোর্নিয়াগামী অন্য একটি বিমান নিউ জার্সির নেওয়ারক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে উড্ডয়নের ৪০ মিনিটের মাথায় ছিনতাই হয়। বিমানটি টেক অফে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হওয়ায় বিমানের যাত্রীরা ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্কের ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলো। তাই তারা যখন দেখতে পেলো তাদের বিমানটিও ছিনতাই হয়েছে, বুঝতে আর বাকি রইলো না কোন উদ্দেশ্য চরিতার্থের বলি হতে যাচ্ছে তারা।

বিমানের যাত্রীরাও বসে থাকেননি। চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সবাই মিলে চার ছিনতাইকারীকে আক্রমণ করেন। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মাধ্যমে বিমানের ককপিটে হামলা চালিয়ে বিমান নিয়ন্ত্রণকারী জঙ্গিকে বিপাকে ফেলে দেন। যে বিমানটি হামলা করার কথা ছিলো আমেরিকান প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউসে, সেটি গিয়ে আছড়ে পড়ল পেনসিলভানিয়ার একটি খোলা মাঠে। বিমানের ৪৪ আরোহীর সবাই প্রাণ হারালেন। কিন্তু তাতে কি! ছিনতাইয়ের পর তারা তো জানতেনই তাদের জীবন সায়াহ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। অসহায়ের মতো না মরে তারা জঙ্গিদের উদ্দেশ্যের বলি না হয়ে বীরের মতো জীবন দিলেন !

মোট কত লোকের প্রাণহানি হয়?

৯/১১ হামলায় সর্বমোট ২৯৯৬ জন মানুষ প্রাণ হারান। এদের মধ্যে হামলাকারী বিমানগুলোতে থাকা ১৯ জঙ্গিও ছিলো। জঙ্গিরাও জানতো সফল হলেও তাদের কেউ আর বেঁচে ফিরবে না। নিউইয়র্ক বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রেই কেবল ২,৭৬৩ জন মানুষ মারা যান। এদের মধ্যে ৩৪৩ জন ছিলেন দমকল বাহিনীর কর্মী ও চিকিৎসক এবং ২৩ জন নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ কর্মকর্তা ও ৩৭ জন বন্দর পুলিশের কর্মকর্তাসহ ৭১ জন পুলিশ কর্মকর্তা। টাওয়ারে আটকে পড়াদের বের করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

মার্কিন প্রতিক্রিয়া

আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ সেদিন ফ্লোরিডায় অবস্থান করছিলেন। হোয়াইট হাউজে আক্রমণের জন্য জঙ্গিরা ভুল দিনটিকে বেছে নিয়েছিলো, সন্দেহ নেই। নিরাপত্তার স্বার্থে সেদিন সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট বুশ গা ঢাকা দিয়ে থাকেন। রাত নয়টায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক টেলিভিশন বার্তায় তিনি বলেন, ‘‘সন্ত্রাসী হামলা আমাদের সুউচ্চ ভবনগুলোর ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে কিন্তু মার্কিন জাতির ভিত্তি তারা স্পর্শও করতে পারবে না। এসব আক্রমণ আকাশচুম্বী ভবনের ইস্পাতকে টলিয়ে দিতে পারে, কিন্তু মার্কিন সঙ্কল্প ইস্পাতের থেকেও দৃঢ়।’’

এ হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয় ‘অপারেশন এন্ডিউরিং ফ্রিডম’। আফগানিস্তানে তালিবান আধিপত্য ও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে আল কায়েদার নেটওয়ার্ক ধ্বংসের উদ্দেশ্যের কথা বলে যুদ্ধ শুরু করে আমেরিকা। মাত্র দুই মাসের ভেতর তালিবানদের ক্রমবর্ধমান নৈরাজ্যকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সমর্থ হয়। পাকিস্তানের তালিবান ঘাঁটিগুলোকে টার্গেট করে অভিযান পরিচালনা করতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ।

কিন্তু নাইন ইলেভেন হামলার অভিযুক্ত মূল হোতা ওসামা বিন লাদেন ২০১১ সালের মে পর্যন্ত ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। ওই বছর ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে পালিয়ে থাকা লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন নেভি সিলের এক বিশেষ দল। জুন মাসে প্রেসিডেন্ট ওবামা যুদ্ধ বন্ধের নিদর্শন স্বরূপ আফগানিস্তান থেকে বৃহৎ পরিসরে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

(সংগৃহীত)

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
16 মার্চ "আন্তর্জাতিক" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md. Mizanur Rahman (1,776 পয়েন্ট)  
1 উত্তর
4 দিন পূর্বে "আন্তর্জাতিক" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md Nafij (48 পয়েন্ট)  
1 উত্তর
1 উত্তর
30 অক্টোবর 2018 "আন্তর্জাতিক" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন R.A.rupu SR(pl) (3,489 পয়েন্ট)  

21,659 টি প্রশ্ন

22,270 টি উত্তর

2,976 টি মন্তব্য

1,845 জন সদস্য



আস্ক প্রশ্ন এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কমিউনিটির এই প্ল্যাটফর্মের সদস্যের মাধ্যমে আপনার প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যার সমাধান পেতে পারেন এবং আপনি অন্য জনের প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন। মূলত এটি বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য একটি প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক কমিউনিটি। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য।

  1. Sajjad Jayed

    297 পয়েন্ট

  2. Yasin Arafath

    214 পয়েন্ট

  3. Md. Mizanur Rahman

    149 পয়েন্ট

  4. অা ক ম আজাদ

    147 পয়েন্ট

  5. মোঃআনোয়ার

    131 পয়েন্ট

...