আস্ক প্রশ্নে আপনাকে স্বাগতম ! এটি একটি প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক কমিউনিটি। এই সাইট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন ...
4 বার প্রদর্শিত
"স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে করেছেন (4,128 পয়েন্ট) 91 357 726

আমার বোনটা বড় হয়েছে। কিন্তু তার মনটা বাচ্চাদের মতো। সে অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী। তবু অনেক সময় ছোটদের মতো জেদ করে। সিদ্ধান্ত নিতে সব সময় দোলাচলে ভোগে। সমাজের বড় বড় মানুষের সামনে নিজেকে তুলে ধরতে ভয় পায়। 

আবার তার মনে এটাও লক্ষ্য, সে চাকরি করবে, কিন্তু তার তো ধৈর্য নেই। তার ছোটবেলা ভালো কাটেনি। সে সবার কাছে বিভিন্ন অস্বাভাবিক আবদার করে। বাচ্চাদের খেলার পুতুল, গাড়ি, ব্যাট, সাইকেল, বল—এসব চায়। যখন-তখন গাছে ওঠে। 

সাইকেল চালায়, ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে খেলে। বিয়ের বেশ কয়েক মাস হয়ে গেল। তার এই অস্বাভাবিক আচরণের কারণে শ্বশুর, শাশুড়ি, স্বামী কেউ তাকে ভালোভাবে মেনে নিতে পারছে না। 

মাঝে মাঝে কোনো কারণ ছাড়াই অনেক কাঁদে। আমার বোনটা খুব কষ্টে আছে। নাম-ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক

 

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (4,128 পয়েন্ট) 91 357 726

তোমার বোনের যে মানসিক অবস্থা, সেটিকে সিগমান্ড ফ্রয়েডের ভাষায় বলা যায় রিগ্রেশন। যার মানে কোনো সংকটময় অবস্থায় প্রাপ্তবয়স্কের মতো আচরণ না করে শিশুসুলভ আচরণে লিপ্ত হওয়া। 

মানসিক চাপ যত বেশি বাড়ে, ততই এ ধরনের আচরণগুলো ঘটতে থাকে। কখনো এই আচরণ একেবারে সহজ-সরল শিশুর মতো হয়, আবার কখনো প্রচণ্ডভাবে নেতিবাচক আবেগ প্রকাশের মাধ্যমেও হতে পারে। 

শৈশবের অনেক বেদনাদায়ক ঘটনা অবচেতন মনে স্থান নেয়। ভুলে যাওয়া স্মৃতিগুলো মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। পরবর্তী সময়ে মানসিক চাপমূলক পরিস্থিতি আবার সেই ক্ষতকে উজ্জীবিত করে তোলে। শৈশবে যুক্তিসংগতভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা থাকে না বলে শিশুরা ঘটনাগুলো ঠিকমতো বিশ্লেষণ করতে পারে না। 

বিয়ের পর একটি নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়াতে গিয়ে সে মানসিক চাপ অনুভব করছে। তার পক্ষে সব সময় স্বাভাবিক আচরণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিয়ের আগে তার মানসিক চিকিত্সা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। সেটি না করে তাকে বিয়ের মতো একটি বড় চ্যালেঞ্জের দিকে ঠেলে দেওয়া ঠিক হয়নি। 

তোমার বোন তো এমনিতেই মানসিকভাবে একটি দুর্বল জায়গায় ছিল। তাকে যখন অন্যরা ঠিকমতো গ্রহণ করছেন না, তখন সে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তোমরা আর সময় নষ্ট না করে ওকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করো। সরকারি হাসপাতালগুলোয় মনোরোগ বিভাগে চিকিত্সার ব্যবস্থা রয়েছে। 

ঢাকায় এসব হাসপাতালে কাউন্সেলিংয়েরও সুযোগ রয়েছে। 

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের চারতলায় নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিটে এবং পাঁচতলায় এডুকেশন ও কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগে সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। আশা করছি, তোমার নিরীহ-অসহায় বোনটি চিকিত্সা নিয়ে এই মানসিক বিপর্যয়গুলো কাটিয়ে উঠতে পারবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মেহতাব খানম। তিনি আপনার মানসিক বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান দেবেন। অল্প কথায় আপনার সমস্যাতুলে ধরুন।—বি. স.

কামরুল হাসান ফরহাদ, বিশেষজ্ঞ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছেন প্রশ্ন ডট কমের সাথে। নিজের সমস্যার সমাধানের পন্থা নিজেই খুঁজে বের করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে ভালোবাসেন। প্রশ্ন অ্যানসারকে ভালোবেসে নিয়েছেন নিজে জানার ও অপরকে জানানোর জন্য।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
02 জানুয়ারি 2018 "মোবাইল ফোন" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মিলন বিশ্বাস (189 পয়েন্ট) 1 6 28
0 টি উত্তর
09 সেপ্টেম্বর "ইন্টারনেট" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Sirazul islam (2,719 পয়েন্ট) 18 118 386
0 টি উত্তর
3 টি উত্তর

23,701 টি প্রশ্ন

24,698 টি উত্তর

3,088 টি মন্তব্য

1,936 জন সদস্য



আস্ক প্রশ্ন এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কমিউনিটির এই প্ল্যাটফর্মের সদস্যের মাধ্যমে আপনার প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যার সমাধান পেতে পারেন এবং আপনি অন্য জনের প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন। মূলত এটি বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য একটি প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক কমিউনিটি। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য।

  1. অা ক ম আজাদ

    1100 পয়েন্ট

    472 উত্তর

    359 প্রশ্ন

  2. Sajjad Jayed

    1077 পয়েন্ট

    519 উত্তর

    506 প্রশ্ন

  3. Md.Rasel Ahmed

    923 পয়েন্ট

    396 উত্তর

    251 প্রশ্ন

  4. S.S.D

    686 পয়েন্ট

    239 উত্তর

    87 প্রশ্ন

  5. কামরুল হাসান ফরহাদ

    623 পয়েন্ট

    318 উত্তর

    335 প্রশ্ন

শীর্ষ বিশেষ সদস্য

124 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম
93 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম
34 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম
31 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম
27 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম
...