53 বার প্রদর্শিত
"বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি" বিভাগে করেছেন (7,703 পয়েন্ট)  
সূর্য পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে নাকি পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ করে ঘুরছে? বৈজ্ঞানিক ব্যাখা সহ বিস্তারিত জানাবেন।

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন (3,768 পয়েন্ট)  


 বিশিষ্ট আলেম ও স্কলারা যে দলিল দেখিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন পৃথিবী স্থীর ও সূর্য তার চারপাশে ঘুরে তা উপস্থাপন করলাম। এ ক্ষেত্রে পন্ডিতবর্গরা সুরা বাকারার ২৫৮ নম্বর আয়াতকে দেখিয়ে সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে বলে বুঝতে সক্ষম হন। সুরা বাকারায় বলা আছে- فَإِنَّ اللَّهَ يَأْتِي بِالشَّمْسِ مِنْ الْمَشْرِقِ فَأْتِ بِهَا مِنْ الْمَغْرِبِ “আল্লাহ তাআ’লা সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। তুমি পারলে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর।” (সূরা বাকারাঃ ২৫৮)। আলেম ও পন্ডিতরা বলেন, সূর্য পূর্ব দিক থেকে উঠার মাধ্যমে প্রকাশ্য দলিল পাওয়া যায় সূর্য পৃথিবীর চারপাশে পরিভ্রমণ করছে। শুরুতে বলে রাখি, এ ধরণের ব্যাখ্যা ইসলামে ১৪০০ বছর পর্যন্ত চলে আসছে অত্যন্ত সদরে ও উচ্চস্বরে। আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার সূচনার আগে কুরআনে বর্ণিত বিশ্বজগত সম্পর্কে তখনকার বৈজ্ঞানিক থিউরীর সঙ্গে মিল পেয়ে এটাকে মুসলমানরা আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দেখেছে। ইসলাম যে বিজ্ঞানময় তাই নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিল। কিন্তু কুপারনিকাস ও গ্যালিলিও যুগের পরে ধর্মগুলো শত্রু হয়ে উঠে বিজ্ঞানের। ইসলাম এসবকে তার উপর বিজ্ঞানের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে। মুসলিম পন্ডিতরা বিজ্ঞানকে প্রত্যাখ্যান করে তাকে কুফরি বলে দাবী করে। তাই অর্ধ শতাব্দীকাল পর্যন্ত (আজকের যুগেও লক্ষ্য করা যায়) মুসলিমরা বিজ্ঞানকে শত্রু জ্ঞান করে তার বিরুদ্ধচারণ করে থাকে। কিন্তু সূর্য কেন্দ্রিক সৌর জগত ও এই মহাবিশ্ব সম্পর্কে আজকের বিজ্ঞানের জ্ঞান এতটাই প্রমাণিত যে তাকে অস্বীকার করা মানে নিজের হাতের তালুকেই অস্বীকার করা। সূর্যের আলোতে নিজের ছায়াকেই নিজের নয় বলে অস্বীকার করার মত বোকামী। জাকির নায়েক ও হারুন ইয়াহিয়াদের মত ননইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত লোকরা এটি বুঝতে পেরেছিলেন বিজ্ঞানকে শত্রু নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞানকে কুরআনের মধ্যে আবিষ্কারই হবে আজকের যুগের জন্য হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। জাকির ও হারুন ইয়াহিয়ারা এই শিক্ষাটা নিয়েছিলেন খ্রিস্টান চার্চ থেকে। চার্চ এখন বিবর্তনবাদকেও বাইবেল সম্মত হবে দাবী করে! যাই হোক, আসুন কুরআনে পৃথিবী কেন্দ্রিক যে গ্রহ-নক্ষত্র ব্যাখ্যা তার আরো কিছু প্রমাণ হাজির করি।

সূরা আনআ’ম এর ৭৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هَذَا رَبِّي هَذَا أَكْبَرُ فَلَمَّا أَفَلَتْ قَالَ يَاقَوْمِ إِنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ -অতঃপর যখন সূর্যকে চকচকে অব্সথায় উঠতে দেখলেন তখন বললেনঃ এটি আমার পালনকর্তা, এটি বৃহত্তর। অতপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যেসব বিষয়ে শরীক কর আমি ওসব থেকে মুক্ত…”(সূরা আনআ’মঃ ৭৮)। আলেমরা ও পন্ডিতরা এর ব্যাখ্যা করে বলেন, এর মাধ্যেমে প্রমাণ হয় পৃথিবী ঘুরছে না। পৃথিবী স্থীর। যদি পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরত তাহলে কুরআনে বলা হতো, সূর্য থেকে পৃথিবী ডুবে গেলো। বার বার বলা হচ্ছে সূর্য ডুবে, সূর্য উঠে। তাই প্রমাণ হাজির সূর্য ঘুরছে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে!

সূর্যের পৃথিবীর চারপাশে ঘুরার আরো একটি প্রমাণ রয়েছে সুরা কাহাফে। এখানে বলা হয়েছে- وَتَرَى الشَّمْسَ إِذَا طَلَعَتْ تَتَزَاوَرُ عَنْ كَهْفِهِمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَإِذَا غَرَبَتْ تَقْرِضُهُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ “তুমি সূর্যকে দেখবে, যখন উদিত হয়, তাদের গুহা থেকে পাশ কেটে ডান দিকে চলে যায় এবং যখন অস- যায়, তাদের থেকে পাশ কেটে বাম দিকে চলে যায়।” (সূরা কাহাফঃ ১৭)। আলেম ও পন্ডিতরা এ বিষয়ে বলেছেন, পাশ কেটে ডান থেকে বামে চলে যাওয়ার কথা থেকে প্রমাণ হয় নড়াচড়া সূর্য থেকেই হয়ে থাকে। পৃথিবী যদি নড়াচড়া করত তাহলে অবশ্যই বলত গুহা পাশ কেটে যায় সূর্য থেকে। একবারও বলা হয়নি পৃথিবী উদয় ও অস্ত যাচ্ছে, সূর্যকে বলা হয়েছে। কাজেই প্রমাণিত সূর্য ঘুরছে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে!

“স্থীর পৃথিবীর” চারপাশে সূর্যের ঘুরার আরো একটি মোক্ষম প্রমাণ হাজির করা হয় সুরা যুমার থেকে। এখানে বলা হয়েছে- خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُسَمًّى أَلَا هُوَ الْعَزِيزُ الْغَفَّار - “তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন। প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।” (সূরা যুমারঃ ৫)। ইসলামী পন্ডিত বলেন, এখানে চন্দ্র ও সূর্য যে চলমান আছে তার পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। একবারও পৃথিবীকে দিবা-রাত্রী উপর ঘুরানোর কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে দিন-রাত্রীর কাজে সূর্য নিয়োজিত আছে। যদি সূর্য স্থীর থাকত তাহলে পৃথিবীতে সব সময় দিনের আলো ফুটে থাকত। যেহেতু স্থীর পৃথিবীর ধারণা আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত (পৃথিবী ঘুরার প্রশ্নই আসে না কারণ তাহলে আমরা মাথা ঘুরে পড়ে যেতাম!!) তাই এক্ষেত্রে সূর্য না ঘুরলে রাত-দিন কিভাবে হবে?

সব শেষে হাদিস থেকে সূর্য পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরার প্রমাণ হাজির করে লেখাটা শেষ করছি। এই হাদিস পরিস্কার করে বলছে সূর্য “উদিত হয় ও অস্ত যায়”! এই বিশ্বজগতে কোন নক্ষত্র কিভাবে উদয় ও অস্ত যায় তা আজকের যুগের মানুষকে বুঝানো খুব কঠিন। কারণ তারা সৌর জগতের ছবি জ্ঞান হবার পর থেকে দেখে আসছে। কিন্তু হাজার বছর আগের মানুষজন রোজ সূর্যকে সন্ধ্যায় পশ্চিমের ঝোপঝারে বা পাহাড়ের পিছনে “ডুবতে” দেখে আর প্রত্যহ সকালে পূর্বে উদিত হতে দেখে নিচের হাদিসটির মত সরল চিন্তা করা ছাড়া তাদের কোন উপায় ছিল না।…

أَتَدْرِي أَيْنَ تَذْهَبُ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ فَإِنَّهَا تَذْهَبُ حَتَّى تَسْجُدَ تَحْتَ الْعَرْشِ فَتَسْتَأْذِنَ فَيُؤْذَنُ لَهَا وَيُوشِكُ أَنْ تَسْجُدَ فَلَا يُقْبَلَ مِنْهَا وَتَسْتَأْذِنَ فَلَا يُؤْذَنَ لَهَا يُقَالُ لَهَا ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِئْتِ فَتَطْلُعُ مِنْ مَغْرِبِهَا
“হে আবু যর! তুমি কি জান সূর্য যখন অস- যায় তখন কোথায় যায়? আবু যার বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সূর্য অস- যাওয়ার সময় আরশের নীচে গিয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং পুনরায় উদিত হওয়ার অনুমতি চায়। অতঃপর তাকে অনুমতি দেয়া হয়। সে দিন বেশী দূরে নয়, যে দিন অনুমতি চাবে কিন’ তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। তাকে বলা হবে যেখান থেকে এসেছ, সেখানে ফেরত যাও। অতঃপর সূর্য পশ্চিম দিক থেকেই উদিত হবে।” (সহি বুখারি, বই-৫৪, হাদিস-৪২১)।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
08 এপ্রিল 2018 "বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Mehedi Hasan (3,014 পয়েন্ট)  
1 উত্তর
1 উত্তর
09 মার্চ "অন্যান্য" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল
1 উত্তর
09 জুন 2018 "তথ্য ও প্রযুক্তি" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Siddique (3,681 পয়েন্ট)  

21,367 টি প্রশ্ন

21,723 টি উত্তর

2,867 টি মন্তব্য

1,654 জন সদস্য



আস্ক প্রশ্ন এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কমিউনিটির এই প্ল্যাটফর্মের সদস্যের মাধ্যমে আপনার প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যার সমাধান পেতে পারেন এবং আপনি অন্য জনের প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন। মূলত এটি বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য একটি প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক কমিউনিটি। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য।

  1. Md.Rasel Ahmed

    144 পয়েন্ট

  2. Md. Redowan Islam

    127 পয়েন্ট

  3. Zahid 420

    110 পয়েন্ট

  4. শামীম মাহমুদ

    104 পয়েন্ট

  5. জ্ঞানের বাদশাহ

    94 পয়েন্ট

...